Apr 14, 2016

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত


 কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত। ১২০ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এ সমুদ্র সৈকতে বৈশিষ্ট হলো পুরো সমুদ্র সৈকতটি বালুকাময়, কাদা অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বালিয়াড়ি সৈকত সংলগ্ন শামুক ঝিনুক নানা প্রজাতির প্রবাল সমৃদ্ধ বিপণি বিতান, অত্যাধুনিক হোটেল মোটেল কটেজ, নিত্য নব সাজে সজ্জিত বার্মিজ মার্কেট সমূহে পর্যটকদের বিচরণে কক্সবাজার শহর পর্যটন মৌসুমে প্রাণচাঞ্চল্য থাকে। সুইজারল্যান্ডের "New Seven Wonderers Foundation" নামীয় বার্নাড ওয়েবার এর ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ২০০০ সালে ২য় বারের মত বিশ্বের প্রাকৃতিক নতুন সপ্তাশ্চার্য নির্বাচন প্রতিযোগিতায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি কয়েকবার শীর্ষ স্থানে ছিল। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি তার স্ব-মহিমায় সমুজ্জ্বল রয়েছে। এর সৌন্দর্য কোনভাবে কোনদিন হানি করা যাবে না। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে অপরূপ সাজে সজ্জিত করার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও স্থানীয় সী-বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রম দৃশ্যমান।

  এখানে শামুক-ঝিনুক ও  প্রবালের দোকানের পাশাপাশি বার্মিজ পণ্যসামগ্রী, কস্মেটিক, ফাস্টফুড, কুলিং কর্ণার, শুটকি, স্টুডিও, মোবাইল সপসহ নানা দোকানের সমাহার রয়েছে। সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ মুখে কক্সবাজার জেলা পরিষদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় দৃষ্টিনন্দন বীচ গার্ডেন কাম পার্ক ও ২৬ টি দোকান সমৃদ্ধ ঝিনুক মার্কেট রয়েছে। বাগানের সম্মুখে লাবনী পয়েন্টে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির তত্ত্বাবধানে দু’তলা বিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও জেলা প্রশাসনের স্থায়ী মুক্ত মঞ্চ রয়েছে।
 
 কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত একটি মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তন করে। শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীস্ম এমন কোন সীজন নেই সমুদ্র সৈকতের চেহারা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। প্রত্যুষে এক রকম তো মধ্যাহ্নে এর রূপ অন্য রকম। গোধুলি বেলার বীচের হাওয়া-অবস্থা আর রাতের বেলার আবহাওয়া-অবস্থার মধ্যে বিস্তর ফারাক। তাই তো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য ক্যাপ্টেন কক্স এর সমুদ্র সৈকত এত কদরের, এত পছন্দের। পর্যটকরা সী বীচে আসে সী-বীচের সাথে আলিঙ্গন করতে, স্নান করতে, এর সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে আর নির্ভেজাল নির্ঝঞ্জাট ও নিরাপদ পরিবেশে বিশুদ্ধ বাতাস খেতে। কর্তৃপক্ষ সী-বীচের জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন্ জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবসে ওপেন কনসার্ট, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বীচ-ফুটবল, বীচ-ভলিবল, বীচ-ক্রিকেট প্রতিযোগিতা, জাতীয় ঘুরি উত্তোলনের উৎসব, বালু স্কালপ্চার নির্মাণসহ অনেক অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। বাংলাদেশে সার্ফিং-কে জনপ্রিয়  খেলা হিসেবে  গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন সী-বীচের  লাবণী  পয়েন্টে সার্ফিং  ক্লাবের  জন্য  অস্থায়ী  সার্ফিং  কুটির  স্থাপন করেছে। সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সম্প্রতি বীচ পুলিশ সংযোজন করা হয়েছে। জোয়ার ও ভাটার সময় প্রদর্শনের জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের উদ্যোগে রয়েছে স্থায়ী-অস্থায়ী বিলবোর্ড ও ব্যানার। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ার-ভাটার জনসচেতনতা ও  শিক্ষামূলক  বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য সমুদ্র সৈকতে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবনী পয়েন্টে এলসিডি টিভি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে।কক্সবাজার রূপালী সমুদ্র সৈকতে বীচ বাইক, জেট স্কী, ঘোড়ার গাড়ি বা ঘোড়া পর্যটকদের  জন্য আনন্দের খোরাক যোগায়। সমুদ্র সৈকতে অনেক চেঞ্জিংরুম, বাথরুম, টয়লেট স্থাপনের কারণে পর্যটকদের প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে কোন অসুবিধে হচ্ছে না যা কয়েক বছর আগেও পর্যটকদের জন্য কল্পনাতীত ছিল।এখানকার নীল পানিতে শরীর ভিজিয়ে মুছে ফেলতে পারো গরমের সব ক্লান্তি। আর সমুদ্র পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করতে পারো।


এছাড়া তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, কক্সবাজার পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত। প্রায় ২৪৯১.৮৬ কিলোমিটার আয়তনের কক্সবাজার জেলার উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বান্দরবন জেলা এবং মায়ানমারের আরাকান রাজ্য ও নাফ নদী এবং পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এছাড়া শুধু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এমন দৈর্ঘ্যরে সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তাই বলতে পারো এই কক্সবাজার আমাদের দেশের অন্যতম গর্বের বিষয়।
কক্সবাজার গেলে শুধু যে সমুদ্র সৈকত দেখবে তা নয়, এর আশেপাশে আরও কয়েকটি চমৎকার সৌন্দের্যের দ্বীপ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা এসব দ্বীপে বেড়িয়ে পাবে আরও বেশি বেশি আনন্দ। এসব দ্বীপের মধ্যে রয়েছে মহেশখালি, কতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহপরি, মাতাবড়ি ও সেন্টমার্টিন বা নারিকেল জিঞ্জিরা। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় বা লঞ্চে যাওয়া যাবে এসব দ্বীপে।

এছাড়া কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশে আরও দুটি সৈকত রয়েছে। এর একটি হলো হিমছড়ি। কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থিত। কেবল  সৈকত নয়, হিমছড়ি পাহাড়ও আছে। পাহাড়ের গায়ে আবার গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন কেন্দ্র। চাইলে হিমছড়ি পাহাড়ে উঠে সমুদ্র সৈকত দেখে পেতে পারো অন্যরকম মজা। হিমছড়ি থেকে প্রায় ১১/ ১২ কিলোমিটার দূরে আছে আরও একটি সৈকত। এর নাম ইনানী। এটিও দেখতে দারুণ! তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোড। এই রোডের এক পাশে সমুদ্র সৈকত আর অন্যপাশে পাহাড় এবং সেই পাহাড় বেয়ে ঝর্ণার ধারা বইছে। সব মিলিয়ে চমৎকার। কক্সবাজার থেকে খোলা জিপ, মাইক্রোবাস বা অটোরিকশায় মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে যাওয়া যাবে হিমছড়ি ও ইনানী। আর যেতে যেতেই দেখা যাবে পাহাড়, সমুদ্র আর ঝর্ণার এসব চোখ জুড়ানো দৃশ্য। এছাড়া যেতে যেতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বসে পড়তে পারো একটি রেস্টুরেন্টে। মেরিণ ড্রাইভ রোডের বিভিন্ন স্থানে চমৎকার সব রেস্টুরেন্ট রয়েছে।
কক্সবাজারকেবল সমুদ্র দেখার তা নয়, চাইলে এখানকার ঝিনুক মার্কেট ও বার্মিজ মার্কেটে আসতে পারো। এখানে মায়ানমার, থাইল্যান্ড, চীনসহ আমাদের দেশের নানা ধরনের পোশাক, উপহার সামগ্রী ও ঘর সাজানোর পণ্য কিনতে পাওয়া যাবে।

No comments:

Post a Comment