Jan 27, 2014

নুহাশ পল্লী

নুহাশ পল্লী-ঢাকার অদুরে গাজীপুরে অবস্থিত।
বিশিষ্ট্য সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রাকৃতিক নৈসর্গ। নুহাশ চলচিত্রের শুটিংস্পট ও পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র এটি। গজারি আর শাল গাছের জংগলের মধ্যে দুর্গ আকৃতির দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকেই সবুজের সমরোহ দেখে চোখ আর মন দুই জুড়িয়ে যাবে।

সবুজের মাঝে লাল সুরকি বিছানো রাস্তা, তার একপাশে একটু দূরে দুরে দুটো কটেজ। এর পাশে জবা ফুলের গাছে ঘেরা খুব সুন্দর সুইমিং পুল আছে। বড় বড় গ্লাসের জানালা ওয়ালা কটেজের রুম গুলো বেশ সুন্দর করে গোছানো। সারা বাড়ি জুড়ে হুমায়ুন আহমেদের বর্তমান সংসার জীবনের জীবনের নানা চিহ্ন ছড়ানো। এখানে একটি ঘরে হুমায়ুন আহমেদের এ পর্যন্ত যত বই বের হয়েছে, তার সবগুলোর একটি সংগ্রহ রক্ষিত আছে। বইপ্রেমিদের জন্য লোভনীয় খবর হলেও এই ঘরে সবার প্রবেশাধিকার নেই। দুই কটজের মাঝে রয়েছে ছোট্ট একটি ছায়া ঘেরা পদ্ম পুকুর।

নুহাশ পল্লী প্রধান ফটক পেরোলেই চোখে পরবে কাঁচা সবুজ গালিচা খুব যত্ন করে কাটা দুবা ঘাসগুলো দেখে আপনি চমকে যাবেন।এত গাঢ় সবুজ সবসময় চোখে পড়েনা। শুরুতেই ডান পাশে একটি সুদৃশ্য স্ট্যাচু রয়েছে। অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন স্ট্যচু তে একজন মা তার ছেলে কে নিয়ে দাড়িয়ে আছে।
বিরাট সবুজ মাঠের এক পাশ থেকে অন্য পাশ পর্যন্ত লম্বা খাঁচায় রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। মাঠের দুই পাশে স্থানে স্থানে রয়েছে ছোট ছোট জলাধার। সেখানে পদ্ম, শাপলা সহ রয়েছে আরো অনেক জলজ ফুল। একটু এগোলেই ডান পাশে মাটির তৈরী একটি বাড়ি রয়েছ। দেখতে মাটির মনে হলেও ঘর টি পাকা আর পাকা ঘরের দেয়ালে মাটি মেখে মাটির ঘরের রুপ দেয়া হয়েছে।অত্যন্ত চমৎকার এই বড়ি টি লতা জাতীয় ফুলগাছে বেষ্টিত। মাঠের মাঝখানে একটি বড় গাছের উপর ছোট ছোট ঘর তৈরী করা হয়েছে। স্যুটিং এর জন্য বিশেষ ভাবে তৈরী ঘরগুলো আবাক করবে আপনাকে। হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত প্রায় সকল নাটক সিনেমার অন্যতম স্যুটিং স্পট এটি।

সবুজ মাঠ পেরিয়েই চোখে পরবে ঔষধী উদ্যান। ঔষধী গাছের সমৃদ্ধ সংগ্রহ। প্রত্যেকটি গাছের গায়ে প্লেটে নাম লেখা রয়েছে, আর তাই গাছ চেনা যাবে সহজেই। রয়েছে অসংখ্য জাতের ফলের গাছ। বিভিন্ন জাতের ক্যকটাসের দেখা মিলবে এখানে।
ঐতিহাসিক প্রানী ডাইনোসরের দেখাও মিলেযাবে। ডাউনোসরের অনেকগুলো স্ট্যচু রয়েছে এখানে। এখানে একটি কাচেঁর ঘরে খুব বড় একটি ক্যকটাস রাখা আছে। নাম-হাড়জোড়া, দেখে মনে হয় হাড়ের মতো করে একটির সাথে আরেকটি কে জোড়া দেয়া হয়েছে। ঔষধী উদ্যানের পাশেই রয়েছে হুমায়ুন আহমেদের এক জন্মদিনে “অন্যদিন” পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া হুমায়ুন আহমেদের একটি পাথরের স্ট্যাচু। উদ্যানের অন্য পাশে রয়েছে হাঁস-মুরগী ও গরুর খামার। উদ্যানটির পুর্ব দিকে রয়েছে খেজুর বাগান। বাগনের এক পাশে “বৃষ্টি বিলাস” নমে অত্যাধুনিক একটি বাড়ি রয়েছে। বৃষ্টির রংঙ্গের বাড়িটির সামনে পাতা আছে অনেকগুলো দোলনা। ইচ্ছে করেলে একটু দুলতে পারেন।
নুহাশ পল্লীর অত্যান্ত সেৌন্দর্য়বহুল আর একটি স্থান “দিঘি লীলাবতী”, যার অবস্থান ঔষধী উদ্যানের পুর্ব পাশে। একটি দিঘিকে নারিকেল গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। রয়েছে সানকাধানো ঘাট। পুকুরের মাঝখানে একটি দ্বিপে অনেকগুলো নরিকেল গাছ আছে।নরিকেল গাছের নিচে কাঠের মাচা পাতা আছে। মৃদু বাতাসে নারিকেল গাছের নিচের এই মাচায় একটু সময় না কাটিয়ে আপনি যেতে পারবেন না ।
সবকিছু মিলিয়ে নুহাশ পল্লী স্বপ্নময় একজন মানুষের সপ্নীল সৃষ্টি। ঘুরে আসুন। ভাল লাগবেই।

No comments:

Post a Comment